Ad
Advertisement
Doctor TV

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬


১০ লাখ টাকার আশায় কিডনি বেঁচে পেলেন মাত্র ৫০ হাজার

Main Image

কালাই থানা, জয়পুরহাট


গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চরম দরিদ্র দিনমজুর মন্টু মিয়া ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে কিডনি বিক্রি করার চুক্তি করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী, নেপালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করে তার একটি কিডনি নেওয়া হলেও তাকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার মন্টু মিয়া আন্তর্জাতিক মানব অঙ্গ পাচারকারী একটি চক্রের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট আদালতে মামলা করেছেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তি মোতাবেক ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও ভুক্তভোগীকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। 

 

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৩ জুন মন্টু মিয়া জয়পুরহাটের ৫ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে কালাই থানাকে নির্দেশ দেন। পরে থানা কর্তৃপক্ষ মামলাটি নথিভুক্ত করে। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার আসামিরা হলেন—বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা-খাঁনপাড়া গ্রামের সাব্বির আহমেদ, একই জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়া গ্রামের সুমন আলী, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কিডনি চক্রের দালাল হিসেবে পরিচিত আব্দুল মান্নান ও সাইদুর রহমান, লওনা-বহুতি গ্রামের আব্দুস ছাত্তার এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জ এলাকার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরী।

 

এজাহারে বলা হয়, সংসার চালাতে গিয়ে বিভিন্ন এনজিও ও স্থানীয়দের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়েন মন্টু মিয়া। এমন পরিস্থিতিতে আসামিরা তাকে কিডনি বিক্রির পরামর্শ দেন। তারা জানান, ঢাকার এক ধনবান নারীর জন্য একটি কিডনি প্রয়োজন এবং এর বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় তিনি ওই প্রস্তাবে রাজি হন।

 

পরে আসামিরা তাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে দেন এবং চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেন। এরপর ভারত হয়ে তাকে নেপালের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণ করা হয়। চিকিৎসার নামে কয়েক দিন হাসপাতালে রাখার পর বাকি টাকা না দিয়েই তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

 

দেশে ফিরে চুক্তি অনুযায়ী বাকি সাড়ে ৯ লাখ টাকা দাবি করলে আসামিরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হন মন্টু মিয়া।

 

জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট উজ্জ্বল হোসেন বলেন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সুযোগ নিয়ে যারা অবৈধভাবে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বেচাকেনার মতো জঘন্য অপরাধ করছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।

 

কালাই থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন