Ad
Advertisement
Doctor TV

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬


বন্ধের ঝুঁকিতে ২১২ মাতৃসদন ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র, অনিশ্চয়তায় ৩,৪৭২ স্বাস্থ্যকর্মী

Main Image

ছবি: সংগৃহীত


দেশের ২১২টি নগর মাতৃসদন ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে নগরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তিন হাজার ৪৭২ জন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর চাকরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নগর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকারের জরুরি ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নগরের দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্য ও বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা দীর্ঘদিন ধরে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে লাখো মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

 

তারা জানান, সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলেও স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মূলধারার সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার আওতায় আসেনি। এ কারণে নগরবাসী, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

বক্তারা বলেন, নগর স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপকতা ও জটিলতার কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে এককভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে এনজিওগুলোর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। পরবর্তীতে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সহযোগিতায় এতে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা যুক্ত করা হয়।

 

বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ২১টি পৌরসভায় প্রকল্পের আওতায় ৪৫টি অংশীদারিত্ব এলাকায় ৪৫টি নগর মাতৃসদন এবং ১৬৭টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। ১৫টি অংশীদার এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৪৭২ জন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি নগরবাসীকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছেন। ২১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৭টি ভাড়াকৃত ভবনে পরিচালিত হচ্ছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এসব কেন্দ্রে ১৬ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ প্রসব-পূর্ব সেবা, এক লাখ ২৫ হাজার প্রসব-পরবর্তী সেবা, ৩০ হাজার স্বাভাবিক ও সিজারিয়ান প্রসব, চার লাখ আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা সেবা, ১২ লাখ শিশুর টিকাদান, ১২ লাখ শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, দুই লাখ কিশোর-কিশোরীর প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রায় এক লাখ মা ও শিশুর পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া অতীতে রেড কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ শতাংশকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হলেও বর্তমানে সেই সুবিধা বন্ধ রয়েছে বলে জানানো হয়।

 

বক্তারা বলেন, নগর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠীই নয়, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাও বড় ধরনের সংকটে পড়বে। তাই প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। 

আরও পড়ুন