Ad
Advertisement
Doctor TV

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬


৮ বছর পর সিমেবিতে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা উপাচার্যের

Main Image

ফাইল ফটো


উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও সেবার মান এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে ঠিকানাবিহীন কাগুজে প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। 

 

যাত্রা শুরুর প্রায় আট বছরেও এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি দেশের চতুর্থ সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এখনো তৈরি হয়নি স্থায়ী ক্যাম্পাস। অবকাঠামো না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কার্যক্রমও শুরু করতে পারেনি। বর্তমানে শুধু অধিভূক্ত মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস, বিডিএস ও নার্সিং কোর্সের পরীক্ষা নেওয়াতেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে।

 

তবে গত বছরের শুরুর দিকে দক্ষিণ সুরমার মোল্লারগাও মৌজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ হলেও প্রকল্পের কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নিয়োগ দেওয়া হয়নি কনসালট্যান্ট। একাডেমিক কার্যক্রমও শুরু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

 

আওয়ামী দুঃশাসনের সময় প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রশাসনিক জটিলতা, পরীক্ষা গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা আর নিয়োগ বাণিজ্যের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির অনেক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি অধীনস্থ মেডিকেল কলেজ সমূহের পেশাগত পরীক্ষায় সুনির্দিষ্ট বাৎসরিক সময়সূচি নির্ধারণসহ দ্রুততার সাথে ফল প্রকাশ এবং সুপার স্পেশালাইজড একটি হাসপাতালের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্থায়ী জনবল নেই। যদিও প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী অ্যাডহক ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে ২৩৯ জন জনবল নিয়োগ দিয়েছিলেন। তবে সেগুলো করোনা মহামারির কারণে তার মেয়াদকালে স্থায়ী করতে পারেননি। 

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত কাজ নির্মানাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন দেড় বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো নিয়ে চালু হবে এ বিশ্ববিদ্যালয়। 

 

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল চার বছরের জন্য তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। 

 

দায়িত্ব গ্রহণের পর সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নিজের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, আমার প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প। জমি অধিগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে।  পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে নির্মিত হবে এক হাজার ২০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল, বিভিন্ন অনুষদ, গবেষণা কেন্দ্র, আবাসন এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার অবকাঠামো। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। 

 

চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণাকে এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ মেডিকেল ও নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আরও সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

তিনি আরো জানান, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে গবেষণা তহবিল আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশী-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে যৌথ গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

 

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা জার্নাল প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডা. জিয়াউর রহমান। এতে শিক্ষক, চিকিৎসক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি।

 

স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়ম ও রোগীদের ভোগান্তি দূর করতে হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত ও রোগীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, চিকিৎসক থেকে শুরু করে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নির্ধারিত পোশাক ও নামফলক বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং অনিয়মের সুযোগ কমে আসে।

 

ডা. জিয়াউর রহমান মনে করেন, সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, গবেষক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেটকে আন্তর্জাতিক মানের একটি 'হেলথ হাব'-এ রূপান্তর করা সম্ভব।

 

তার মতে, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

 

আরও পড়ুন